সরকারি স্বরূপকাঠী পাইলট মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়

নেছারাবাদ (স্বরূপকাঠী), পিরোজপুর।

১৯২৭

১৯২৭ সনের ৪ জানুয়ারি, একটি স্বপ্ন নিয়ে আমাদের বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল স্বরূপকাঠী হাই স্কুল নামে।

১৯৫৯

পুন:প্রতিষ্ঠা: ১৯৫৯ সনে ৪ঠা জানুয়ারি মিলাদের মাধ্যমে বিদ্যালয়ের কার্যক্রম শুরু হয়।

১৯৭২

এর দশক শিক্ষা ও পরিকাঠামোর উন্নয়ন ও নাম করন হয় স্বরূপকাঠী দ্বিমুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে মাধ্যমিক পরীক্ষার কেন্দ্র স্থাপিত হয়।

১৯৭৭

স্বরূপকাঠি দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিবর্তে স্বরূপকাঠি পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়।

১৯৮৩

১৯৮৩–১৯৮৬ সময়কালে “স্বরূপকাঠি পাইলট মাধ্যমিক ও কমিউনিটি বিদ্যালয়” রাখা হয়।

১৯৯৬

কমিউনিটি কারিকুলাম বিলুপ্ত করে বিদ্যালয়ে ভোকেশনাল (কারিগরি) শাখা চালু করা হয়।

২০১০

“স্বরূপকাঠি পাইলট মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়” হিসেবে নতুন পরিচয় লাভ করে।

২০১৮

২০১৮ সালের ১১ অক্টোবর “সরকারি স্বরূপকাঠি পাইলট মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়” সরকারি মর্যাদা লাভ করে।

২০২৭

শ্রেষ্ঠত্বের শতবর্ষ পূর্ণ করে সম্ভাবনাময় এক আলোকিত ভবিষ্যতের পথে অগ্রযাত্রা।

বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস


তথ্য সূত্র : ১

আমরা সকলেই জানি, ঐতিহ্যবাহী স্বরূপকাঠী স্কুল ১৯২৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। তবে এর পেছনে রয়েছে আরো কিছু অজানা কথা। যতদূর জানা যায় ১৮৬৩ সালে এটি একটি মাইনর স্কুল হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করে। স্থানীয় জমিদার দত্ত পরিবারের আনুকুল্যে এবং স্থানীয় জনদরদী ও প্রভাশালী ব্যক্তিদের সমাজ ও জনকল্যাণের প্রতি আগ্রহ থেকেই স্কুলটি প্রতিষ্ঠা লাভ করেছিল। পরবর্তীতে কোন এক সময়ে স্কুলটি জুনিয়র। জুনিয়র স্কুল হিসেবে স্বীকৃতি লাভ। আরো পরে জমিদার দত্ত পরিবারের প্রায় ২৫ শতাংশ জমির উপর বর্তমান স্থানে শিকলার খালপাড় ঘের্ষে ঘের্ষে স্কুলটি হাই স্কুল হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে ১৯২৭ সালে।
বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনের এক পর্যায়ে এর কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। জানা যায় স্কুলের প্রধান শিক্ষকসহ অনেক ছাত্র শিক্ষক বিপ্লবী ‘যুগান্তর’ দলের সদস্য হিসেবে স্বদেশী আন্দোলনের সাথে যুক্ত থাকায় তারা ক্রমে ক্রমে আত্মগোপনে চলে যান। ফলে স্কুলটি হুমকির মুখে পড়ে। সঙ্গত কারণেই স্কুলের কার্যক্রম ক্রমে স্লথ গতি ধারণ করলেও স্কুলের কার্যক্রম চলতে থাকে। জানা যায় ১৯৫০ সালের দিকে স্কুলের মাধ্যমিক স্কুল বন্ধ হয়ে গেলেও জুনিয়র স্কুলের কার্যক্রম চলমান থাকে। ১৯৫২ সালের ডিসেম্বও মাসে স্কুলের কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায় বলে জানা গেছে।
স্কুলের মূল উদ্যোক্তাদের অনেকেই বেঁচে নেই, যারা ছিলেন, তাদের বেশীরভাগই দেশান্তরী। এমন অবস্থায় স্কুলটি চলু করার উদ্যোগ নেন কতপিয় জনদরদী ও বিদ্যুতসাহী মানুষ। তাঁদের অক্লান্ত অক্লান্ত পরিশ্রমে আবারোবে ভুলের কার্যক্রবার শুরদেহতে লেগে যায় উদ্যোক্তাদের মধ্যে ছিলেন জগন্নাথকাঠীর জনাব আব্দুল ওয়াহাব এবং সুটিয়াকাঠীর জনাব এম এ রউফ। এঁরা দু’জনেই তখনকার খুব নামকরা স্কুল গাবা হাই স্কুলের শিক্ষক ছিলেন। উল্লেখ্য গাবা হাই স্কুল তখন ঝালকাঠীর অন্তর্ভুক্ত ছিল, ১৯৯১ সালে গাবা বানারীপাড়ার অন্তর্ভুক্ত হয়।
তখনকার বাকেরগঞ্জ জেলা পরিষদের সদস্য ডা. আব্দুল লতিফের সহায়তায় এই দুই ব্যক্তিবর্গ। স্থানীয়দের দফায় দফায় একত্রিত একত্রিত মিটিং করে করে করে স্কুলটি স্কুলটি অবশেষে পুনরায় স্কুলের চালুর জন্য করার একটি উদ্যোগ ম্যানেজিং এ কমিটি সময়ে, সময়ে গঠন এগিয়ে এসন এসন স্থানী স্থানীয় গণ্যমা গঠন করা হয়- এর সভাপতি হন ডা. আবদুল লতিফ এবং সম্পাদক হন ধীরেন্দ্রনাথু সমাদ্দার। গঠিত কমিটিতে অন্য কে কে সদস্য ছিলেন, তার সঠিক তথ্য জানী না গেলেও তখন যে সকল ব্যক্তি স্কুলটি পুনরায় চালু করার জন্য অবদান রেখেছিলেন তাদেও কয়েকজনের নাম জানা গেছে। এঁরা হলেন: সর্বজনাব সুরেন্দ্রনাথ কর্মকার, সুধীর চন্দ্র বসু, গিয়াস উদ্দীন আহমেদ, জয়নুল আবেদীন সিকদার, আবুল কাসেম মোল্লা (দ্রারোগা), সেকেন্দার আলী (দারোগা), আবুল। আবুল কাসেম এবং আবদুল গণি মিয়া। এছাড়া স্বরূপকাঠী সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের সাব রেজিস্ট্রার এবং স্বাস্থ্য কেন্দ্রের মেডিকেল অফিসারও অগ্রণী
ভূমিকা পালন করেন। এ দু’জনের নাম উদ্ধার করা যায়নি। করণিকের দায়িত্ব নেন। নতুন করে স্কুলটি চালু করার সময় প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন জন্নাথকাঠীর জনাব মোহাম্মদ হাবীবুল্লাহ। শিক্ষ হিসেবে দায়িত্ব নেন সর্বজনার সেকেন্দার আলী মিয়া, এম এ রউফ, এম এ ওয়াহাব, মৌলভী শামসুল হক; এছাড়া একজন সংস্কৃত পন্ডিত ছিলেন- ছলেন- তার তার নাম নাম উদ্ধার করা করা সম্ভ হয়নি। এ এ সময়ে শিক্ষক কাম নেন জনাব আবদুস সাত্তার। স্কুলটি ১৯৫৯ সালের ৪ জানুয়ারি নতুন করে কার্যক্রম শুরু করে।
স্কুল থেকে ১৯৬০, ১৯৬১ ও ১৯৬২ সালে ম্যাট্রিকুলেশন পরীক্ষায় ছাত্ররা প্রাইভেট পুরীক্ষার্থী হিসেবে অংশগ্রহণ করে। ১৯৬৩ সালে স্কুলের নামেই শিক্ষার্থীগণ ম্যাট্রিকুলেশন পরীক্ষায় অংশ নেন। যদিও এনিয়ে কিছু মতবিরোধ রয়েছে।
শুরুতে স্কুলে নাম ছিল স্বরূপকাঠী নাম ছিল স্বরূপকাঠী হাই স্কুল। পরবর্তীতে এটির নামকরণ করা হয়, স্বরূপকাঠী দ্বিমুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয়। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পরপরই ১৯৭২ সালে স্বরূপকাঠী দ্বিমুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে মাধ্যমিক পরীক্ষার কেন্দ্র স্থাপিত হয়। পরবর্তীতে স্কুলের নামকুরণ করা হয় স্বরূপকাঠী পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়, আরো পরে নামকরণ হয় স্বরূপকাঠী পাইলট মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়। বর্তমানে স্কুলটি সরকারিকরণ করায় এর নাম হয়েছে সরকারি স্বরূপকাঠী পাইলট মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: রচনাটি সম্পূর্ণ নয়, কালের গর্ভে চলে গেছে অনেক তথ্য। তাই এ বিষয়ে কারো ভিন্নমত বা নতুন তথ্য থাকে তা জানানোর অনুরোধ রইলো।
তথ্যসূত্র:
১. জনাব মোঃ আব্দুল ওয়াহাব, প্রাক্তন শিক্ষক, স্বরূপকাঠী হাই স্কুল (১৯৫৯- ১৯৬৪)। ২. জনাব মোহাম্মদ হেমায়েত উদ্দীন, প্রাক্তন শিক্ষক, স্বরূপকাঠী হাই স্কুল (১৯৭৩-২০০০)।

তথ্য সূত্র : ২

বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ইতিহাস


১৯২৭ সনের ৪ঠা জানুয়ারি স্বরূপকাঠীর বড় দত্ত বাড়ির দত্ত মহাশয়দের কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত হয়ে সুনামের সহিত ১৯৪৬ সন পর্যন্ত পরিচালিত হয়ে আসছিল। তবে ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের আগমুহুর্তে ১৯৪৬ সনে হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গার সময় স্কুলটি পরিচালনায় বেশ সমস্যার সৃষ্টি হয়। দেশ বিভাগের সময় স্কুল পরিচালনকারী ব্যক্তিবর্গ অধিকাংশই ভারতে চলে যান। মুষ্টিমেয় হিন্দু সম্প্রদায় ব্যক্তিবর্গ যাঁরা বিদ্যালয়টিকে টিকিয়ে রাখার জন্য প্রচেষ্টা চালিয়েছিলেন তাঁরাও ১৯৫১ সালে পূর্ব পাকিস্তানে সাম্প্রাদায়িক দাঙ্গা শুরু হলে দেশ ত্যাগ করে ভারতে চলে যান। ফলে ১৯৫২ সনে বিদ্যালয়টি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যায়।

বন্ধ হয়ে গিয়েও স্কুল রাহুমুক্ত হয়নি। বিদ্যালয়টির আসবাবপত্র, বই পুস্তক ও অন্যান্য দ্রব্য সামগ্রী যা ছিল তাও বারভূতে লুটে পুটে নিয়ে যায়। শুধু ঘর দুটোই কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে বিদ্যালয়ের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য। এটুকুতেই শেষ নয়, শ্যেন দৃষ্টি পড়ে ঘর দুটোর প্রতি কাউখালী বাসীদের। তারা সরকারী অনুমতি নিয়ে ভেঙ্গে নিতে আসে ঘর দু’টিকে, ভাঙ্গাও শুরু করে। তখন স্বরূপকাঠীর বাবু সুরেন্দ্রনাথ কর্মকার মহাশয় স্থানীয় লোকজন নিয়ে প্রবল বাঁধার সৃষ্টি করে একটি ঘর রক্ষা করে বালিকা বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের এনে প্রাথমিক বিদ্যালয় বসান। যদিও বিদ্যালয়টির নাম বালিকা বিদ্যালয় ছিল। তথাপিও সেখানে ছোট ছোট বালক বালিকা পড়ত। ততক্ষণে বিদ্যালয়টি বিভিন্ন পরিস্থিতিতে ১৯৫২ সন হ’তে ১৯৫৮ সন পর্যন্ত চলতই না বললে চলে।

১৯৫৮ সনের শেষের দিকে এই বিদ্যানিকেতনটির পুনঃপ্রতিষ্ঠার চিন্তা আসে দুই যুবকের মাথায়। সেই যুবক দু’জন হলেন জগন্নাথকাঠী নিবাসী জনাব আব্দুল ওয়াহাব এবং সুটিয়াকাঠী নিবাসী জনাব আব্দুর রউফ।

সেই সময়ে তাঁরা গাভা হাই স্কুলে শিক্ষকতা করতেন। গাভা থেকে বাড়ী ফেরার পথে চিন্তা করতে ছিলেন স্বরূপকাঠী স্কুলটিকে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা যায় কিনা। তাঁদের চিন্তার কথা জানালেন শ্রদ্ধেয় ডাঃ আব্দুল লতিফ সাহেবের কাছে। ডাঃ আব্দুল লতিফ সাহেবও নিজে নিজে অনুভব করতে ছিলেন একটি বিদ্যালয়ের প্রয়োজনীয়তার কথা। বলার সাথে সাথে সানন্দে গ্রহণ করলেন তাদের কথা। শুরু হল স্কুল পুনঃপ্রতিষ্ঠার কাজ। জুটে গেলেন বাবু ধীরেন্দ্রনাথ সমদ্দার, বাবু সুরেন্দ্রনাথ কর্মকার, বাবু সুধীর চন্দ্র বসু, জনাব গিয়াস উদ্দিন আহম্মদ, জনাব ডাঃ শামসুদ্দীন মোঃ আকবর, জনাব মোসলেম আলী ডাকুয়া, জনাব জয়নাল আবেদীন সিকদার ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। জগন্নাথকাঠী মডার্ণ ইয়থ ক্লাবের যুবক সম্প্রদায়ও এতে অংশগ্রহণ করে। বসলো আলোচনা সভা। এ সভায় স্থানীয় জনগণ ছাড়াও অত্র থানার সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দও একবাক্যে বিদ্যালয়ের প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করেন। আর এ দিকে শিক্ষকও যোগাড় হলো। প্রধান শিক্ষক হলেন আউরিয়া নিবাসী জনাব মুহাম্মদ হাবীবুল্লাহ এবং শিক্ষক ছিলেন জগন্নাথকাঠি নিবাসী জনাব আব্দুল ওয়াহাব, সুটিয়াকাঠি নিবাসী জনাব আব্দুর রউফ, জগন্নাথকাঠি নিবাসী জনাব টি. এম হাবীবুল্লাহ, মাগুরা নিবাসী জনাব এ, কে, এম বেলায়েত হোসেন, জগন্নাথকাঠি নিবাসী জনাব সেকান্দার আলী, স্বরূপকাঠি নিবাসী বাবু উপেন্দ্র নাথ আচার্য্য, আকলম নিবাসী জনাব মৌলভী কাজী মোঃ শামসুল হক এবং জগন্নাথকাঠি নিবাসী জনাব আব্দুস সাত্তার। করনিক হিসেবে ছিলেন কলার দোয়ানিয়া নিবাসী জনাব মোঃ ইয়াকুব আলী সাহেব। আর দপ্তরী যোগাড় হল স্বরূপকাঠি নিবাসী সুরেশ চন্দ্র গুহ।

এদিকে বিদ্যালয় পুনঃপ্রতিষ্ঠার প্রস্তুতি চলতে লাগলো, ঘর দরজা আসবাবপত্র যোগাড় হতে লাগলো, এ ব্যাপারে সরকারী কর্মচারীদের মধ্যে যার নাম সর্বাগ্রে বলতে হবে স্বরূপকাঠী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জনাব আবুল কাসেম মোল্লা। আর এক দিকে ঘর দরজার ভার নিলেন জনাব গিয়াস উদ্দিন আহম্মেদ, সঙ্গে নিলেন জগন্নাথকাঠী নিবাসী আব্দুর রহমান মিঞাকে। এভাবে ১৯৫৮ পেরিয়ে ১৯৫৯ এ পা দিল। আসলো শুভ ৪ঠা জানুয়ারী। মিলাদ পাঠের মধ্য দিয়ে “স্বরূপকাঠি হাই স্কুল” নামে শুভ উদ্বোধন হয়ে গেল। শুরু হল ছাত্র ভর্তি। সর্বপ্রথম দশম শ্রেণিতে ভর্তি হল নরেন্দ্রনাথ গুহ এবং নির্মল চন্দ্র দাস। অন্যান্য শ্রেণিতেও ভর্তি চলতে থাকলো। মিঃ হারু দত্ত বিধুভূষণ দত্ত নামে, নুরুল ইসলাম খায়রুল আলম নামে, চিত্তরঞ্জন কর চন্দ্র কান্ত কর নামে এবং মোঃ হাশমত মোঃ আখতার হোসেন নামে ভর্তি হলো। আরো ছাত্র আসতে লাগল। চলল তাদের লজিং দেওয়ার ব্যবস্থা। বলতে গেলে স্বচ্ছল অবস্থার কেউই বাদ পেলনা লজিং রাখা থেকে কিবা হিন্দু কিবা মুসলমান। আর যাদের লজিং এর ব্যবস্থা করা যেতনা তাদেরকে স্কুল কমিটির ঘরে পাঠানো হত। 

এদিক থেকে জনাব গিয়াস উদ্দিন আহম্মদ সাহেবই ছিলেন প্রথম কাতারের। কোন ছেলের যদি লজিং এর ব্যবস্থা না করা যেত তিনি সেই ছেলেকে তাঁর বাড়ী পাঠাতে বলতেন। এমনকি ৮০’র দশকে আমি তার ছোট ছেলে জনাব মোঃ লকিতুল্লাহ সাহেবের গৃহে থেকে পড়াশুনা করেছি। মুষ্টির চাল সংগ্রহ করত জনাব হাশমত ওরফে মোঃ আকতার হোসেন ও জনাব মোঃ আব্দুস সাত্তার স্যার। জনাব আব্দুল ওয়াহাব স্যারের জন্য বাড়ী থেকে যে খাবার পাঠাত অনেক সময় লজিং না পাওয়া ছেলেদের খাইয়ে নিজে এক মুঠো মুড়ি খেয়ে থাকতেন। এভাবে শুরু হলো বিদ্যালয়ের কার্যক্রম। কিন্তু বেঞ্চ, চেয়ার, টেবিল ও অন্যান্য আসবাব পত্রের ছিল প্রচুর অভাব। তাই রবীন্দ্রনাথের শান্তি নিকেতনের ন্যায় গাছ তলায়, মাঠে, মন বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে সকল ছাত্র-ছাত্রীরই ধ্যান ও খেয়াল ছিল বিদ্যালয়ের উন্নতির প্রতি। বিদ্যালয় ঘর ছিল কাঁচা ভিটির উপর এবং বিদ্যালয়ের চার পাশে ছিল ডোবা, নালা, খাল, এগুলি ছাত্র-শিক্ষক মিলে সবটাই ভরাট করেছে। এই ভরাট কাজে যারা প্রতিযোগিতা করে মাটি টেনেছে তাদের মধ্যে জনাব আব্দুল লতিফ, জনাব তৈয়বুর রহমান, বাবু শংকর লাল কর্মকার, বাবু চন্দ্র কান্ত কর, জনাব আব্দুল মান্নান, জনাব আব্দুস কুদ্দুস, জনাব আব্দুল মালেক, জনাব আব্দুস সালেক, জনাব খলিলুর রহমান, জনাব মোবারেক সাহেবের নাম উল্লেখযোগ্য। কোন এক বর্ষায় বিদ্যালয় মাঠ পানি ভর্তি। বিদ্যালয় পরিদর্শন হবে। রাস্তা বাঁধতে হবে। সকল ছাত্র এবং শিক্ষকগণ মিলিত হয়ে পানির মধ্যে খালের পাড় পর্যন্ত এক উচু রাস্তা বেঁধে ফেলল। বিদ্যালয়ের সকল কাজে যে ছাত্রটি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন তিনি হলেন মরহুম আব্দুল মজিদ। সকল কাজে অংশগ্রহণ করত ও তদারকি করতো বলে ছাত্ররা তাকে কর্তা বলে ডাকতো। প্রথম প্রথম সে রাগ হতো, পরে কর্তা বললে হাসত। তাদের কাজে শ্রেণিতে যিনি প্রত্যেক কাজে উৎসাহ দিতেন তিনি হলেন বাবু বিধুভূষণ দত্ত। তখনকার যে সব ছাত্রী ছিল, তারা বিদ্যালয়ের কাজে মোটেই পিছিয়ে ছিলেন না। বিদ্যালয় ঘর কাঁচা ভিটির উপর ছিল। সেই কাঁচা ভিটিকে মাটি দ্বারা লিপে মুছে যাঁরা ঝক ঝকে করে রাখত তাদের মধ্যে যাদের মুখ্য ভূমিকা থাকত তাঁরা হলেন মিসেস ফাতেমা, মিসেস তহমিনা, মিসেস ভারতী বোস, মিসেস পুষ্প, মিসেস সাবিত্রী, মিসেস শোভা, মিসেস আভা ও মিসেস গৌরি প্রমুখ। উৎসাহ উদ্দীপনা নিয়ে আর যাঁরা বিদ্যালয়ের কাজ করতেন তাঁরা হলেন ডাঃ মফিজুল ইসলাম সাহেবের শ্যালক জনাব মোঃ আসাদুজ্জামান, সাব-রেজিস্ট্রার সাহেবের শ্যালক জনাব শফিউদ্দিন ও জনাব বিমল সমদ্দার।

সেই সময় বিদ্যালয়টি শিক্ষায় সাংস্কৃতিক দিকে, কৃষিতে, বাগান করায়, খেলাধুলায় কোনদিক থেকেই পশ্চাপদ ছিলনা। বরঞ্চ দৃঢ়ভাবে বলতে হয় এ থানার ভিতর সকল ক্ষেত্রেই উৎকৃষ্ট ছিল। এর প্রমাণ ১৯৬১ সনে শিক্ষা সচিবের বিশেষ অনুমোদনে ৯জন ছাত্র পরীক্ষা দেয়। ৯জনই পাশ করত যদি একজন ছাত্র কয়েক বিষয় পরীক্ষা দেয়ার পর অসুস্থ হয়ে না পড়ত। প্রথমবারের সেই ৯জন ছাত্র হলেন- বাবু মধুসুদন গুহ, বাবু ননী গোপাল দত্ত, জনাব আব্দুল আজিজ, জনাব হারুণ-অর-রশিদ। বাবু নির্মল চন্দ্র দাস, জনাব শহীদুল আলম, মিসেস ইয়াসমিন ও জনাব খায়রুল আলম। ১৯৬২ সনে এসএসসি পরীক্ষা দেন ২৪জন ছাত্র-ছাত্রী। তার মধ্যে ২২জন শিক্ষার্থী পাশ করেন। তাঁরা হলেন সর্বজনাব দিপঙ্কর সমদ্দার, আব্দুল মান্নান, আব্দুল মজিদ, আব্দুর রশিদ, আব্দুল কাদের, মহেন্দ্রনাথ দাস, শহীদুল আলম, আব্দুস সালেক, আব্দুল মান্নান মানিক, আব্দুর রশিদ, আব্দুল মান্নান আকন, আব্দুর রব, আব্দুল আজিজ, শৈলেন্দ্র নাথ দত্ত, পরিমল দাস, মানবেন্দ্র ভটব্যাল, আসরাফ আলী, আবুল কাসেম, ফিরোজা বেগম, সুশীল দাস, দেব প্রসাদ আইচ ও বিধুভূষণ দত্ত। ১৯৬৩ সনে ১৬জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ১৪জন পাশ করেন। তাঁরা হলেন সর্বজনাব চন্দ্রকান্ত কর, রণজিৎ দাস, আব্দুল লতিফ, আব্দুল মান্নান, আব্দুল মালেক, মোঃ খলিলুর রহমান, মোঃ তৈয়বুর রহমান, আব্দুল জলিল, আবু জাফর, আব্দুল বারেক, মোবারক আলী, আব্দুল কুদ্দুস হাওলাদার, মোঃ শফীউল্লাহ ও নির্মল গুহ। এ হল প্রথম ৩ বৎসরের পাশের খতিয়ান ।

সাংস্কৃতিক অঙ্গন এতই উন্নত ছিল যে প্রতি সপ্তাহে বির্তক সভা হত। দেয়াল ম্যাগাজিন বের হত, দু’এক মাস অন্তর বিচিত্রানুষ্ঠান করা হত। নাটকও করা হত। সাংস্কৃতিক দিকে যে উন্নত ছিল তার প্রমাণ বাণিজ্য বিভাগের পরিচালক ডঃ ইকবাল করিম কোন এক ব্যাপারে এসেছিলেন বিদ্যালয়ে। তাঁর আগমনে বিনা অনুশীলনে দু’তিন ঘন্টার প্রস্তুতিতে এক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। তিনি এই অনুষ্ঠান দেখে এতই মুগ্ধ হয়েছিলেন যে, সেই পাকিস্তানের বলতে গেলে প্রথম যুগ, সেই সময়ই ৩/৪ শত টাকা পুরস্কার দেন। অভিনয়ে যাদেরকে মনে করতে হয় তাঁরা হলে মরহুম সিরাজুল ইসলাম টুনু, স্বর্গীয় দিপঙ্কর সমদ্দার, স্বর্গীয় চন্দ্রকান্ত কর, মোহাম্মদ আলী যাকে সবাই আলী ভাই বলে ডাকত। কাসেম মোল্লার স্থলাভিসিক্ত ও.সি সেকান্দার আলী সাহেবের ভিক্ষুকের অভিনয় ছিল অনবৈদ্য। পারের হাটের আব্দুল মজিদের ইলিশ মাছের জারিগান যে শুনে থাকবে সে কখনো ভুলতে পারবে না। মিসেস রোকেয়ার জারি পেশাদার বয়াতিদের হার মানাত। এছাড়া কবিতায় আব্দুল মান্নান ও আব্দুল ওয়াহিদের জসিম উদ্দিনের ‘কবর’ কবিতার অভিনয় যে দেখেছে সে চোখের পানি না ফেলে উঠতে পারতোনা। মিসেস গৌরি ও মিসেস সাবিত্রী দিদির নাচও ভুলবার নয়। খেলাধুলায় পিছিয়ে ছিলনা বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। যে কোন টিমের সঙ্গে খেলে প্রায়ই জয়ী হয়ে ফিরত।

লেখাপড়া খেলাধুলার ফাঁকে ছাত্ররা ক্ষেত খামারও করত। তার প্রমাণ একবার স্কুলের ক্ষেত থেকে ফুটি জন্মিয়ে ছাত্রদের কাছে ডাকে ১২০টাকায় বিক্রি করা হয়। বিদ্যালয়ের সম্মুখে ফুলের বাগানও করা হত। এভাবে যখন এলাকাবাসী ও সরকারী কর্মচারীবৃন্দের সহায়তায় বিদ্যালয়টি পুনঃপ্রতিষ্ঠা লাভ করে সুন্দরভাবে চলতে ছিল তখনই বাঁধা আসল পাশ্ববর্তী আকলম মুসলিম মাধ্যমিক বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কর্তৃক। আকলম স্কুল কর্তৃপক্ষ প্রবল বাঁধার সৃষ্টি করল। যাতে এ বিদ্যালয়টি সরকারী অনুমোদন না পায়। শিক্ষা বিভাগের প্রতিটি দপ্তরেই স্বরূপকাঠী বিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলল যে, স্বরূপকাঠীকে অনুমোদন দিলে আকলম স্কুল টিকবে না। এছাড়াও অভিযোগ তুলল তাদের বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী স্বরূপকাঠী নিয়ে গেছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে অভিযোগের ভিত্তিতে মাসে দু’একবার তদন্ত বা পরিদর্শন হতে লাগল। এমনকি উচুতলা থেকে ADPI জনাব মোঃ একরাম হোসেন সাহেবকেও নেমে আসতে হয়েছিল তদন্ত করতে। আর রেঞ্জ ইন্সপেক্টর, DEO এদেরতো কথাই ছিলনা এমনকি একবার DC জনাব বোরহান উদ্দিন সাহেব ও ইন্সপেক্টর কে.এস ইসলাম সাহেব একযোগে তদন্তে এসেছিলেন। যার ফলে ১৯৬০ সনে স্কুলের স্বীকৃতি মিলে নাই। দশম শ্রেণির ছাত্রদের অন্যত্র পরীক্ষা দিতে হয়েছিল। ১৯৬২ সনে শিক্ষা সচিবের বিশেষ অনুমোদনে পরীক্ষা দেওয়ানো গেল। কিন্তু স্বীকৃতি মিললো না। ১৯৬২ সনে শিক্ষা সচিব আর পরীক্ষা দেওয়ার অনুমতি। পাথর বেঁধে লেগে রইলেন স্কুলে। জনাব আব্দুল হাকিম স্যার তাঁর স্ত্রীর অলঙ্কার বন্ধক রেখে বিদ্যালয়ের আর্থিক দৈন্যতা কিছুটা হলেও ঘুচাতে চেষ্টা করলেন।

আসলো ১৯৬১ সন। ২৬শে মার্চের ঘূর্ণিঝড়ে বিদ্যালয় ঘর সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হল। স্বেচ্ছাশ্রমে তখন এই বিধ্বস্ত ঘর মেরামত করে দেওয়ার জন্য এগিয়ে এলেন তাঁরা হলেন জনাব আব্দুল হামিদ দোকানদার, জনাব সেকান্দার আলী ডাকুয়া, ডাঃ আমজাদ হোসেনসহ আরও অনেকে। স্কুল কমিটি, শিক্ষক, ছাত্ররাও একাজে ছিল। উঠলো বাঁশের খুঁটির ঘর। বিদ্যালয় পূর্বেরই ন্যায় চলতে ছিল। সদাশয় গর্ভনের নির্দেশে বোর্ডও স্বীকৃতি প্রদান করল।

বিভিন্ন চড়াই-উৎড়াই পেরিয়ে স্কুল তার নিজস্ব গতিতে চলছে। ১৯৬৬ সনের ছয় দফা আন্দোলন, ১৯৬৯ সনের গণঅভ্যুত্থান, ১৯৭০ সনের সাধারণ নির্বাচনসহ প্রতিটি আন্দোলনেই অত্র বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সক্রিয় ভূমিকা ছিল। ১৯৭১ সনের মার্চের পরে দেশে অসহযোগ আন্দোলন শুরু হয়। ২৬শে মার্চ মহান মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ন্যায় অত্র বিদ্যালয়ে ছাত্র-শিক্ষক মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। প্রধান শিক্ষক জনাব মোঃ সিরাজুল হক নেছারাবাদ থানার ওসি সাহেবের সহায়তায় ছাত্রদের মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের প্রশিক্ষণ দিতেন স্কুল মাঠে বসে। ছাত্রদের মধ্যে স্বরূপকাঠী গ্রামের সর্বজনাব মোঃ মাহাবুবুল আলম, মোঃ সোহরাব হোসেন, এবিএম সালেহ, মোঃ আব্দুল মন্নান, মোঃ মাসুম খান, জগন্নাথকাঠী গ্রামের সর্বজনাব আব্দুস সত্তার, মোঃ মজিবুর রহমান, মোঃ আব্দুল হালিম, জগৎপট্টি গ্রামের মোঃ আলমগীর হোসেন হাওলাদার, মোঃ নজরুল ইসলাম, মাগুরা গ্রামের শহীদ আবু জাফর মন্টু, অলংকারকাঠী গ্রামের শেখ মোঃ জহিরুল হক, সোহাগদল গ্রামের সর্বজনাব মোঃ আব্দুল জলিল, মোঃ শাহাবুদ্দিন, আরামকাঠী গ্রামের জনাব মোঃ মাহাবুবুল আলম, মলুহার গ্রামের জনাব মোঃ আফজাল হোসেন, উমারের পাড় গ্রামের জনাব মোঃ আব্দুর রশীদ। 

বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটিতে শুরু থেকেই প্রতিষ্ঠাতা পরিবারের সদস্যবর্গ ছিলেন। পাকিস্তান আমলে সভাপতি ছিলেন SDO মহোদয়গণ ও স্বাধীনতার পর ছিলেন CO (সার্কেল অফিসার) মহোদয়গণ। জনাব ডাঃ আব্দুল লতিফ সহ- সভাপতি ও বাবু ধীরেন্দ্রনাথ সমদ্দার সেক্রেটারী হিসেবে দীর্ঘসময় দায়িত্ব পালন করেন। তাছাড়া ১৯৭৪ সনের পরে বিভিন্ন সময় চলমান কমিটি ও এডহক কমিটির সময়ে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মরহুম গিয়াস উদ্দিন বেপারী, মরহুম আবুল কাশেম, সাবেক এমপি জনাব অধ্যক্ষ মোঃ শাহ আলম, বাবু চন্দ্রকান্ত কর, জনাব মোঃ শফিকুল ইসলাম ফরিদ, উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনাব শাহেন রেজা, সাবেক এমপি জনাব এ, কে, এম আউয়াল, উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনাব সরকার আব্দুল্লাহ আল মামুন বাবু, উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনাব মোঃ মোশারেফ হোসেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনাব মোঃ মাহাবুব উল্লাহ মজুমদার, উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনাব মনিরুজ্জামান, সহকারি কমিশনার (ভূমি) জনাব রায়হান মাহমুদ, উপজেলা নিবার্হী অফিসার জনাব মোঃ জাহিদুল ইসলাম শামীম ও বর্তমানে উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনাব অমিত দত্ত মহোদয়। সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন জনাব মোঃ আব্দুল খালেক বালী, বাবু কেশব লাল দাস, জনাব মোঃ লকিতুল্লাহ, জনাব মোঃ আব্দুল লতিফ, জনাব মোঃ শফিকুল ইসলাম ফরিদ, বাবু শশাঙ্ক রঞ্জন সমদ্দার প্রমুখ। 

বিদ্যালয়ে ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন জনাব আব্দুল গণি, বাবু সুধীর রঞ্জন বোস, বাবু সুরেন্দ্র নাথ কর্মকার, জনাব জয়নাল আবেদিন সিকদার, বাবু সুখরঞ্জন কর্মকার, বাবু শংকর লাল কর্মকার, জনাব মোঃ হাবিবুর রহমান, জনাব আলহাজ্ব মতিউর রহমান সিকদার, জনাব নূর মোহাম্মদ হাওলাদার, জনাব মোঃ বজলুর রহমান হাওলাদার, জনাব মোঃ মহিবুল্লাহ হাওলাদার, জনাব মোঃ নজরুল ইসলাম, জনাব মোঃ গোলাম কবির, জনাব মোঃ আব্দুল ওহাব চান্দু, জনাব মোঃ খলিলুর রহমান, জনাব মোঃ আব্দুল কুদ্দুস হাওলাদার, জনাব মোঃ ছিদ্দিকুর রহমান, জনাব মোঃ আতিকুল্লাহ, জনাব এস.এম ফেরদৌস লাকী, জনাব মোঃ আলমগীর হোসেন হাওলাদার, জনাব মোঃ নুরুল ইসলাম খান, জনাব মাসুম আহম্মেদ, জনাব আবুল কালাম তালুকদার, জনাব আবুল কালাম আজাদ, জনাব এ, কে, এম শফিকুল ইসলাম আয়নাল, জনাব মাহামুদুর রহমান খান, জনাব মোঃ হেদায়েতুল ইসলাম, জনাব মাহবুব আলম, জনাব মোঃ নাসির আহম্মেদ রফিক, জনাব মানিক লাল সরকার, জনাব তসলিম মাহামুদ, জনাব মোঃ জাহিদুল ইসলাম সালাম, মিসেস রোকসানা মমতাজ, মিসেস নাসরিন আখতার, মিসেস জেসমিন আখতার, জনাব জহিরুল হক মন্টু, জনাব আব্দুস সালেক প্রমুখ। ব্যবস্থাপনা কমিটিতে শিক্ষক প্রতিনিধি হিসেবে ছিলেন জনাব আব্দুস সাত্তার, বাবু বিনয় ভূষণ চৌধুরী, জনাব কাজী সালেক, বাবু ননী গোপাল দত্ত, জনাব হেমায়েত উদ্দীন, জনাব ননীভূষণ বড়াল, জনাব মোঃ আতিকুল্লাহ, জনাব মোঃ ওয়াহিদুজ্জামান মানিক, আমি মোঃ আমিনুল ইসলাম তালুকদার, মিসেস নাঈমা জাহান, মিসেস শিখা হালদার, জনাব মোঃ জিয়াউল ইসলাম ও জনাব মোঃ ইমাম সিকদার (সম্মানিত সদস্যদের নাম জ্যেষ্ঠতার ক্রমানুসারে নয়)। ২০১৮ সনের ১১ অক্টোবর জাতীয়করণের পর থেকে সরকারী বিধি মোতাবেক উপজেলা নির্বাহী অফিসার সভাপতি, উপজেলা পঃ পঃ কর্মকর্তা ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার সদস্য এবং সকল শিক্ষক সদস্য ও প্রধান শিক্ষক সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে বিদ্যালয়টি পরিচালিত হয়ে আসছে।

বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাকালিন সময়ের শিক্ষকমন্ডলী ছাড়াও পরবর্তীতে অনেকেই বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করে অন্যত্র চলে যান। তাঁরা হলেন জগন্নাথকাঠির জনাব আব্দুর রশিদ, তিনি পরবর্তীতে প্রাইমারী স্কুলে যোগদান করেন। জগন্নাথকাঠির সাধন কুমার সরকার ও স্বরূপকাঠির প্রেম রঞ্জন সমদ্দার। বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ অলংকৃত করেছেন তাঁরা হলেন জনাব মুহাম্মদ হাবীবুল্লাহ, জনাব মোঃ আব্দুল হাকিম, বাবু অধীর রঞ্জন বড়াল, জনাব মোঃ সিরাজুল হক, বাবু ব্রজেন্দ্র নাথ হালদার, জনাব মুহাম্মদ হাবীবুল্লাহ, জনাব মোঃ আবুল মনসুর গাজী, জনাব আলহাজ মোঃ আব্দুল হাই (ভারপ্রাপ্ত), জনাব মোঃ শাহ আলম বাহাদুর, জনাব মোঃ সাহাদাৎ হোসাইন (ভারপ্রাপ্ত), বাবু স্বপন কুমার দত্ত, জনাব মোঃ আতিকুল্লাহ (ভারপ্রাপ্ত), জনাব মোঃ কামাল হোসেন (ভারপ্রাপ্ত), জনাব মোঃ ওয়াহিদুজ্জামান মানিক (ভারপ্রাপ্ত) ও বর্তমানে দায়িত্ব পালন করছেন বাবু সিদ্ধার্থ শংকর মিস্ত্রী (ভারপ্রাপ্ত)।

বিদ্যালয়ে প্রতিষ্ঠাকালিন সহকারী প্রধান শিক্ষক ছিলেন সোহাগদল নিবাসী জনাব আব্দুল হাকিম, পরবর্তীতে বাইশারির বাবু সুখরঞ্জন, সোহাগদল নিবাসী জনাব আলহাজ্ব আব্দুল হাই, জনাব আব্দুস সাত্তার, বাবু বিনয় ভূষণ রায় চৌধুরী (প্রভাতী শাখা), জনাব মোঃ সালেকুর রহমান (প্রভাতী শাখা), জনাব মোঃ আতিকুল্লাহ, জনাব মোঃ কামাল হোসেন (ভারপ্রাপ্ত), জনাব মোঃ ওয়াহিদুজ্জামান মানিক (ভারপ্রাপ্ত) ও বর্তমানে দায়িত্ব পালন করছেন জনাব মোঃ জিয়াউল ইসলাম (ভারপ্রাপ্ত)।

বিদ্যালয়ে ১৯৮৯-৯০ সালে করনিক-কাম শিক্ষক হিসেবে কিছুদিন দায়িত্ব পালন করেন মিসেস ইতিকা রাণী কর্মকার, ১৯৯৬ সনে শপ সহকারী হিসেবে যোগদান করেন মিসেস শিখা রাণী কর্মকার ও ১৯৯৮ সনে প্রথম শিক্ষিকা হিসেবে যোগদান করেন কৃষি বিজ্ঞানের মিসেস নাঈমা জাহান। বিদ্যালয়ে শুরু থেকে মানবিক শাখা শুরু হয়। কালক্রমে শিক্ষকতা পেশায় যোগদান করেন- জগন্নাথকাঠির বাবু বিনয় ভূষণ রায় চৌধুরী, সংগীতকাঠী বাবু নির্মল, স্বরূপকাঠির বাবু শংকর প্রসাদ শীল, আরামকাঠির জনাব খান মোহাম্মদ আলী, আউরিয়া নিবাসী জনাব আসরাফ আলী, উঃ জগন্নাথকাঠি নিবাসী জনাব মোঃ আতিকুল্লাহ, কৌড়িখাড়ার মোঃ শাহিনুজ্জামান কামারকাঠী নিবাসী বাবু অমল কৃষ্ণ চন্দ, স্বরূপকাঠী নিবাসী দেবাশীষ রঞ্জন সমদ্দার। বর্তমানে কর্মরত আছেন যৌশার নিবাসী জনাব রিপন মিত্র, জগন্নাথকাঠির জনাব শেখ মোঃ মুনিরুল ইসলাম, উজিরপুরের ধামুরা নিবাসী মিসেস আরমানা ফরিদ, পানাউল্লাহপুর নিবাসী মিসেস রোজিনা সুলতানা ও স্বরূপকাঠী নিবাসী মিসেস নীলাঞ্জনা আচার্য। পরবর্তীতে বিজ্ঞান শাখা খোলা হলে রাহুৎকাঠির জনাব মোঃ শাহজাহান, মাহামুদকাঠির জনাব আব্দুর রব, স্বরূপকাঠির বাবু দিপঙ্কর সমদ্দার, মাগুরার জনাব আব্দুর রব, সোহাগদলের আলহাজ্ব আব্দুল হাই, আকলমের জনাব গাজী আব্দুর রহিম, সোহাগদলের জনাব জয়নাল আবেদিন, ডুবির জনাব মোঃ হাফিজুর রহমান, সোহাগদলের জনাব মোঃ শাহ আলম বাহাদুর, সলিয়াবাকপুরের জনাব আব্দুর রব, কাজলাহারের বাবু ননী ভূষণ বড়াল, পূর্ব জলাবাড়ীর বাবু রবীন্দ্র নাথ হালদার ও বর্তমানে কর্মরত আছেন পূর্ব জলাবাড়ীর সিদ্ধার্থ শংকর মিস্ত্রী ও রাজবাড়ীর জেলার বালিয়াকান্দি উপজেলার আলোকদিয়া গ্রামের মিসেস শিউলী ভট্টাচার্য। ১৯৭৩ সনে বাণিজ্য বিভাগ খোলা হলে মাহামুদকাঠির জনাব সালেকুর রহমান যোগদান করেন। বাবু বিনয় ভূষণ রায় চৌধুরী স্যার বাণিজ্য বিভাগে নিয়মিত ক্লাস নিতেন। পরবর্তীতে জগন্নাথকাঠির জনাব মোঃ ওয়াহিদুজ্জামান মানিক ও সোহাগদলের জনাব জিয়াউল ইসলাম যোগদান করেন।

তৎকালিন সরকার বাংলাদেশের প্রতিটি থানায় দু’টি করে বিদ্যালয়কে পাইলট প্রকল্পের আওতায় আনার কারণে ১৯৭৭ সনে স্বরূপকাঠি দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিবর্তে নামকরণ হয় “স্বরূপকাঠী পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়”। ১৯৮৩ সনে যুক্ত হয় “স্বরূপকাঠি পাইলট মাধ্যমিক তথা কমিউনিটি বিদ্যালয়”। তিনটি ট্রেডে নিয়োগ পেয়ে জেনারেল মেকানিক্স শাখায় যোগদান করেন মাহামুদকাঠী নিবাসী জনাব হাসান মাসুদ ও পরবর্তীতে অশ্বথকাঠি গ্রামের বাবু অমল কৃষ্ণ হালদার, সিভিল ট্রেডে কৃষ্ণকাঠী নিবাসী বাবু ভুবনেশ্বর মজুমদার, কৃষি ট্রেডে সংগীতকাঠী নিবাসী মোঃ এনামুল হক ও পরবর্তীতে সুটিয়াকাঠী নিবাসী জনাব মোঃ কামাল হোসেন। পরবর্তীতে ১৯৯৪ সনে কমিউনিটি শাখা বিলুপ্ত হলে কর্মরত শিক্ষকদের জেনারেল শাখায় আত্তীকরণ করা হয়। ১৯৯৬ সনে তৎকালিন প্রধান শিক্ষক জনাব শাহ আলম বাহাদুর স্যারের প্রচেষ্টায় অত্র বিদ্যালয়ে কারিগরি শাখা খোলা হয়। তখন তিনটি ট্রেডে শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন জেনারেল মেকানিক্সে পিরোজপুর সদরের পালপাড়া নিবাসী বাবু তপন কুমার মজুমদার, পরবর্তীতে মাহামুদকাঠী নিবাসী জনাব মোঃ আতাউর রহমান, বিল্ডিং মেইন্টেন্যান্সে মাদ্রা নিবাসী বাবু সুনীল চন্দ্র মিস্ত্রী, গুয়ারেখা নিবাসী বাবু নিত্যান্দ সূতার, এগ্রাবেস্ড ফুড ট্রেডে আরামকাঠী নিবাসী বাবু কমলেন্দু সমদ্দার ও সোহাগদল নিবাসী বাবু মৃত্যুঞ্জয় মিস্ত্রী, শপ সহকারী হিসেবে পিরোজপুরের পশ্চিম শিকারপুর নিবাসী মিসেস শিখা রাণী কর্মকার ও ল্যাব সহকারী হিসেবে উত্তর জগন্নাথকাঠী জনাব এস, এম জাকির হোসেন যোগদান করেন, পরবর্তীতে জনাব এস. এম জাকির হোসেনের পরিবর্তে জগন্নাথকাঠী নিবাসী মিসেস তামিয়া কুদ্দুস ল্যাব সহকারী হিসেবে যোগদান করেন। পরবর্তীতে কারিগরি শাখায় কম্পিউটার ডেমোনেস্ট্রর হিসেবে স্বরূপকাঠী নিবাসী জনাব মোঃ নাসির উদ্দিন, বিল্ডিং মেইন্টেন্যান্স শাখায় ঝালকাঠি জেলার শ্রীমন্তকাঠি গ্রামের বাবু বিপ্লব কুমার হালদার, ভাষা শিক্ষায় নান্দুহার নিবাসী মিসেস সাদিয়া আফরোজ ও বিজ্ঞান শিক্ষায় বানারীপাড়া উপজেলার আলতা গ্রামের বাবু পলাশ চন্দ্র হালদার যোগদান করেন।

ষাটের দশকে শরীরচর্চ্চা শিক্ষক হিসেবে যোগদান করে জনাব মোঃ মোজাম্মেল হক। পরবর্তীতে আকলম নিবাসী কাজী মোঃ সালেক স্যার। তিনি নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে স্কুলের কার্যক্রমে পরিচালনায় নিজেকে নিয়োজিত রাখতেন। তিনি অবসরে যাবার পরে ল্যাব সহকারী থেকে শরীরচর্চ্চা শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন জনাব এস. এম জাকির হোসেন। তিনি অসাধারণ ক্রীড়া নৈপুণ্য প্রদর্শনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। তাঁর নিদের্শনায় ক্রীড়ানুষ্ঠানের উদ্বোধনী ডিসপ্লে ছিল সত্যিই মনোমুগ্ধকর এবং বরিশাল বিভাগে অদ্বিতীয়। ডিসপ্লে’র উপস্থাপনায় প্রায়ই থাকতাম আমি মোঃ আমিনুল ইসলাম তালুকদার। তিনি স্কাউটস্ – এ অসাধারণ পারদর্শিতা দেখিয়েছেন। শ্রেষ্ঠ শিক্ষক নির্বাচিত হয়েছেন অসংখ্যবার। তিনি রাষ্ট্রীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত একজন শিক্ষক। তিনি থাইল্যান্ড, ভারতসহ বিভিন্ন দেশে ভ্রমণ করেছেন। তিনি নতুন কারিকুলাম-২০২২ এর স্বাস্থ্য ও সুরক্ষা বিষয়ের জেলা পর্যায়ের মাস্টার ট্রেইনার হিেেসব দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। তখন দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী জামিলা আখতার তুলি গার্ল ইন স্কাউটস হিসেবে থাইল্যান্ড ভ্রমণে গিয়েছিল। 

২০০১ সনে কম্পিউটার শিক্ষার প্রসারকল্পে সৃষ্টপদে কম্পিটার শিক্ষক হিসেবে যোগদান করি আমি মোঃ আমিনুল ইসলাম তালুকদার। ২০১৮ সনের ৩০শে সেপ্টেম্বর বিদ্যালয়ে সেসিপ কর্তৃক ILC ল্যাব স্থাপিত হলে ২০১৯ সনে আমি ও সহকারী প্রধান শিক্ষক জনাব মোঃ আতিকুল্লাহ ওভারসীজ ট্রেনিং ফর আইসিটি প্রশিক্ষণে নিউজিল্যান্ড গমন করি। নিউজিল্যান্ডের Wellington College Auckland Massey University, Manukau Instute of Technology(MIT), MiTek, Asia Pacific Conference এ প্রশিক্ষণ গ্রহণ করি। নতুন কারিকুলাম-২০২২ এর ডিজিটাল প্রযুক্তি বিষয়ের জেলা পর্যায়ের মাস্টার ট্রেইনার হিসেবে নিষ্ঠার সহিত দায়িত্ব পালন করার চেষ্টা করছি।

স্কুল প্রতিষ্ঠাকালিন মৌলভী হিসেবে যোগদান করেন আকলমের জনাব কাজী মোঃ শামসুল হক। কিছুদিন ধর্মীয় শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন বিষ্ণুকাঠী নিবাসী মাওলানা মোঃ মশিউর রহমান। পরবর্তীতে ইসলাম ধর্মে শাখা শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন আসোয়া আমড়াঝুড়ির জনাব মাওলানা মোঃ মাহবুবুর রহমান এবং জনাব কাজী শামসুল হক স্যার অবসরে গেলে তাঁর পরিবর্তে যোগদান করেন আকলম নিবাসী জনাব মাওলানা মোঃ জাহাঙ্গীর হোছাইন। ষাটের দশকে হিন্দু ধর্মীয় পন্ডিত হিসেবে যোগদান করেন শর্ষিণা নিবাসী বাবু নগেন্দ্র নাথ ঘোষ, পরবর্তীতে করণিক-কাম শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন বাবু নণী গোপাল দত্ত স্যার, তিনি পরবর্তীতে নগেন্দ্র নাথ ঘোষের পরিবর্তে হিন্দু ধর্মীয় পন্ডিত হিসেবে যোগদান করেন এবং বর্তমানে হিন্দুধর্মীয় শিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছেন দৈহারী নিবাসী মিসেস শিখা রাণী হালদার।

স্কুল প্রতিষ্ঠাকালিন সময়ে করণিক-কাম শিক্ষক হিসেবে ছিলেন কলার দোয়ানিয়া নিবাসী জনাব ইয়াকুব আলী সাহেব। পরবর্তীতে জনাব আব্দুস সাত্তার, আরামকাঠীর জনাব আবুল কালাম আকন, পরবর্তীতে তিনি প্রাইমারীর শিক্ষকতার পরে ATEO হিসাবে যোগদান করেন। আকলম নিবাসী জনাব মোঃ হেমায়েত উদ্দিন ও জগন্নাথকাঠী নিবাসী জনাব মোঃ আব্দুল কাদির, পরবর্তীতে তাঁরা অত্র স্কুলসহ বিভিন্ন স্কুলে শিক্ষকতা করে প্রধান শিক্ষক হিসেবে অবসর গ্রহণ করেন। ৮০’র দশকে অফিস সহকারী হিসেবে যোগদান করেন জগন্নাথকাঠী নিবাসী জনাব মোঃ আব্দুল হালিম এবং ৯০’র দশকে যোগদান করেন সোহাগদল নিবাসী জনাব মোঃ আব্দুল হান্নান। বর্তমানে বিদ্যালয়ে এ পদটি শুন্য রয়েছে। বিদ্যালয়ে খন্ডকালিন শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন স্বরূপকাঠী নিবাসী জনাব মধুসূদন কর্মকার, জনাব মোঃ জাকির হোসেন, জনাব মোঃ হাসান উল বান্না ও বাবু সুজন চন্দ্র শীল। বর্তমানে কর্মরত আছেন জগন্নাথকাঠী নিবাসী বাবু সুদেব বোস, মিসেস জান্নাতুল আখতার, বাবু মিলন দাস ও মিসেস মোসাঃ ফারহানা আখতার। স্কুল প্রতিষ্ঠাকালিন সময়ে বিদ্যালয়ের বরকন্দাজ হিসেবে নিয়োগ পেলেন স্বরূপকাঠি নিবাসী নেড়ে মাথা বাবু সুরেশ চন্দ্র গুহ। পরবর্তীতে ৬০’র দশকে এম.এল.এস.এস হিসেবে যোগদান করেন আকলম নিবাসী জনাব মোঃ ফজলুল হক। ৭০’র দশকে আউরিয়া নিবাসী জনাব মোঃ মজনু মিয়া ও ৮০’র দশকে মাহামুদকাঠী নিবাসী মোঃ আব্দুল মন্নান। ৭০’র দশকে নৈশ প্রহরী হিসেবে যোগদান করেন আউরিয়া নিবাসী মোঃ আবুল হাসেম ও স্বরূপকাঠী নিবাসী আব্দুল মন্নান। বিদ্যালয়ে বর্তমানে এ পদগুলো শুন্য রয়েছে। এছাড়াও খন্ডকালিন ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারী হিসেবে চাকুরী করেছেন মাহামুদকাঠী নিবাসী মোঃ আবু জাফর ও জগন্নাথকাঠী নিবাসী মোসাঃ আম্বিয়া বেগম। বর্তমানে খন্ডকালিন ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারী হিসেবে কর্মরত আছেন মাহামুদকাঠী নিবাসী মোসাঃ লাইলী বেগম, আকলম নিবাসী মোঃ নূরুজ্জামান ও মোঃ আল আমিন। বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পরে স্কুলের কার্যক্রম পুরো উদ্যোমে চলতে থাকে। ১৯৭২ সনে “স্বরূপকাঠি দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয় নামে পরিচালিত হয়। 

১৯৭১ ও ‘৭২ সনের এসএসসি পরীক্ষা একত্রে ১৯৭২ সনে অনুষ্ঠিত হয়। ১৯৭৫ সনে বাণিজ্য শাখা হতে জনাব মেজবাহ উদ্দিন বাদল যশোর বোর্ডে ৯ম মেধাস্থান দখল করেন। ১৯৮১ সনে আলো রাণী কর্মকার বাণিজ্য বিভাগ হতে ৯ম স্থান দখল করেন। ১৯৮৩ সনে জনাব নাসির উদ্দিন সর্বপ্রথম বোর্ডে স্টার মার্ক পেয়ে এসএসসি পাশ করেন। ৮০’র দশকে বিদ্যালয়ে লেখাপড়ার মান অনেক উন্নত হতে থাকে। মেধাবী শিক্ষার্থীরা ফলাফলে আকলম স্কুলকে পিছনে ফেলে দেয়। এর ধারাবাহিকতা এখনও চলমান। ১৯৮৫ থেকে ১৯৯০ ব্যাচের অনেক শিক্ষার্থী বুয়েট, মেডিকেল, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়সহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি সুযোগ লাভ করে। ৮৮’র ব্যাচের শিক্ষার্থীরা সবেচেয়ে বেশি উচ্চশিক্ষা লাভ করার সুযোগ পায়। ৯০’র এর স্বৈরাচার এরশাদ বিরোধী গণআন্দোলনে অত্র স্কুলের সাবেক শিক্ষার্থী প্রয়াত মোঃ সেলিম হোসেন আকন (কামারকাঠী), মোঃ ওয়াহিদুল ইসলাম মুরাদ, মোঃ মিজানুর রহমান, এস.এম মুশফিকুর রহমান, মোঃ মিজানুর রহমান জাহিদ, সিরাজুন্নবী মামুন ও আমি সক্রিয় অংশগ্রহণ করি। ৯০’র দশক থেকে শুরু করে অদ্যাবধি অনেক শিক্ষার্থী বুয়েট, মেডিকেল ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করে সগৌরবে দেশমাতৃকার সেবায় নিয়োজিত আছেন। 

আমাদের বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা যুগে যুগে বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক অনুষ্ঠানে কৃতিত্ব অর্জন করে। জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ, মৌসুমী শিশু প্রতিযোগিতা, আর্ন্তজাতিক মাতৃভাষা ও শহীদ দিবস, জাতীয় শিশু দিবস, মহান স্বাধীনতা দিবস, মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় কবিতা আবৃত্তি, নৃত্য, চিত্রাঙ্কন ও সংগীতে উপজেলা, জেলা ও বিভাগে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করে। অনেকে জাতীয় পর্যায়ে অংশগ্রহণ করার সুযোগ পেয়েছে। কাবাডি, দাবা ও ফুটবল প্রতিযোগিতায় প্রায়ই বিজয়ী হয়ে বরিশাল বিভাগীয় পর্যায়ে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছে। বিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থী প্রতিবছর জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহে শ্রেষ্ঠ শিক্ষার্থী নির্বাচিত হয়। ২০০১ সনে আমদের বিদ্যালয়টি জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত লাভ করে। স্কুলের চরে দীর্ঘদিন যাবত স্বরূপকাঠীর ঐতিহ্য কাঠ ব্যবসা চলে আসছিল। সেখান থেকে প্রতিবছর বেশ আয় হতো। যা দিয়ে স্কুলের অবকাঠামোসহ অন্যান্য উন্নয়নমূলক কাজ করা হত। ২০০০ সনে নিজস্ব অর্থায়নে রাস্তার পাশের প্রশাসনিক ভবনটি তৈরি করা হয়। ব্যবস্থাপনা কমিটির প্রতিটি সদস্যই কমবেশি অবদান রেখেছেন স্কুল উন্নয়নে। ১৯৮৯-৯১ মেয়াদের কমিটির সহ-সভাপতি জনাব লকিতুল্লাহ সাহেবের নেতৃত্বে স্কুলের বেদখলকৃত জমিজমা মামলার মাধ্যমে উদ্ধার করা হয়। এ মামলায় সহযোগিতা করেন প্রতিষ্ঠাতা শিক্ষক ও পরে সুপ্রিম কোর্টের ডেপুটি অ্যার্টনি জেনারেল জনাব টি.এম হাবীবুল্লাহ। তখন স্বরূপকাঠীর স্বর্গীয় অনন্ত কুমার শীল (মঙ্গল শীল) ও জগৎপট্টির উপন্দ্রে নাথ সাহা কিছু জমি স্কুলে দান করেন। স্কুল চর প্রসারিত হলে অনেকেরই সেদিকে দৃষ্টি পড়ে। ১৯৯৭ সনে ব্যবস্থাপনা কমিটি ও প্রধান শিক্ষক জনাব শাহ আলম বাহাদুরের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় তৎকালিন উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনাব কে.বি.এম ওমর ফারুক চৌধুরী চর ও খাসজমির কিছু অংশ স্বরূপকাঠী পৌরসভা, একাংশ স্কুলের নামে এবং অপর অংশ স্বরূপকাঠী মুক্তিযোদ্ধা সংসদের নামে লীজ দিয়ে বরাদ্দ করেন। তখন পশ্চিম পাশের প্রাচীর ও পুকুর ভরাট করা হয় বিদ্যালয়ের নিজস্ব অর্থায়নে।

২০১০ সনে ব্যবস্থাপনা কমিটির দীর্ঘদিনের সদস্য জনাব গোলাম কবির ও প্রধান শিক্ষক জনাব স্বপন কুমার দত্ত স্যারের তত্ত্বাবধানে বিদ্যালয়ের নিজস্ব অর্থায়নে দক্ষিণ পাশে চারতলা বিশিষ্ট একাডেমিক ভবন নির্মাণ করেন। দ্বি-তল ভবন নির্মিত হলেও অর্থাভাবে বাকী কাজ সমাপ্ত করা সম্ভব হয়নি। এতে অবশ্য তৎকালিন সভাপতি মাননীয় এমপি মহোদয় জনাব অধ্যক্ষ শাহ আলম স্যারেরও যথেষ্ট অবদান রয়েছে। ২০১৪ সনে বিদ্যালয়ের চরের আয় হাতছাড়া হয়ে যায়। বর্তমানে সরকারের নিয়ন্ত্রণে চরের কাঠ ব্যবসা পরিচালিত হচ্ছে। বিদ্যালয়ের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা জনাব জয়নুল আবেদীন সিকদার বিদ্যালয়ের মসজিদটি নির্মাণ করেন। যা পরবর্তীতে বিদ্যালয় দ্বারা পরিচালিত হত। বর্তমানে উপজেলা ভূমি প্রশাসন ২০১৮ সনে “তারিক বিন জিয়াদ মসজিদ” নামকরণ করে মসজিদটি নিয়ন্ত্রণ করছে। ২০১০ সনে সরকারের পরিকল্পনা মোতাবেক প্রতিটি উপজেলায় একটি করে মডেল স্কুল প্রতিষ্ঠার কারণে বিদ্যালয়টির নামকরণ করা হয় “স্বরূপকাঠী পাইলট মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়”। এরই ধারাবহিকতায় ২০১৮ সনের ১১ অক্টোবর বিদ্যালয়টি জাতীয়করণ করে নামকরণ হয় “সরকারি স্বরূপকাঠী পাইলট মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়” ২০২২ সনে নতুন কারিকুলাম বাস্তবায়নে সারাদেশ ব্যাপী ৬২টি স্কুলকে পাইলটিং প্রোগামের আওতায় আনা হয়। আমাদের স্কুলটি ‘৮৭ ব্যাচের শিক্ষার্থী NCTB’র সাবেক সচিব জনাব নাজমা আখতার বিপ্লবী মহোদয় ৬২টি স্কুলের মধ্যে পাইলটিং প্রোগ্রামের আওতায় নিয়ে আসেন। আমরা ১১টি বিষয়ে ১১জন শিক্ষক নতুন কারিকুলাম বাস্তবায়নে ঢাকায় কয়েকবার প্রশিক্ষণ গ্রহণ করি। যার ফলশ্রুতিতে বাংলা বিষয়ে জনাব মোঃ ইমাম সিকদার, বিজ্ঞান বিষয়ে জনাব শিউলি ভট্টাচার্য, ইতিহাস ও সামাজিক বিজ্ঞান বিষয়ে জনাব আরমানা ফরিদ, ডিজিটাল প্রযুক্তি বিষয়ে আমি মোঃ আমিনুল ইসলাম তালুকদার, স্বাস্থ্য ও সুরক্ষা বিষয়ে জনাব এস. এম জাকির হোসেন, জীবন ও জীবিকা বিষয়ে জনাব মোঃ জিয়াউল ইসলাম এবং ইসলাম শিক্ষা বিষয়ে জনাব মোঃ জাহাঙ্গীর হোছাইন জেলা পর্যায়ে মাস্টার ট্রেইনার নির্বাচিত হই। বর্তমানে আমরা শিক্ষক মন্ডলী নতুন কারিকুলাম বাস্তবায়নে সচেষ্ট ও নিষ্ঠার সহিত দায়িত্ব পালন করার চেষ্টা করছি।

বিদ্যালয়ে মসজিদ স্কুলের আওতায় আনা ও মসজিদ থেকে পশ্চিম দিকের চর সীমানা নির্ধারণ করে প্রাচীর নির্মাণ প্রয়োজন যা কর্তৃপক্ষের কাছে প্রত্যাশা। বিদ্যালয়ে একটি সুদৃশ্য শহীদ মিনার স্থাপিত হয়েছে। বর্তমানে একটি সুদৃশ্য গেট প্রয়োজন। তাছাড়া কেন্দ্রীয় মন্দিরের দক্ষিণ পাশে প্রধান শিক্ষকের জন্য একটি দোতালা বাসভবন ছিল সেটি ১৯৮৬ সনে শহীদ স্মৃতি কলেজ প্রতিষ্ঠাকালিন অনেক শিক্ষকই বসবাস করতেন। সেই দোতালা ঘরটি কখন হারিয়ে গেছে তা আমার সঠিক জানা নেই। যায়গাটি পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। অনেকেরই যায়গাটির প্রতি লোলুপ দৃষ্টি পড়ছে বিধায় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে প্রত্যাশা যায়গাটি সংরক্ষণ করা এবং প্রধান শিক্ষককের জন্য বাসভবনটি নির্মাণ করা। বিদ্যালয়ের বর্তমান সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনাব অমিত দত্ত মহোদয়ের তত্ত্বাবধানে শ্রেণি কার্যক্রমসহ অন্যান্য সহপাঠক্রমিক কার্যক্রম সুন্দরভাবে চলমান আছে। বিদ্যালয়ের গেট, সুদৃশ্য শহীদ মিনার, একাডেমিক ভবনের অসমাপ্ত কাজসহ বিদ্যালয়ের মাঠ প্রশ্বস্থকরণসহ অন্যান্য উন্নয়নমূলক কাজে তাঁর বিশেষ অবদান রয়েছে। 

লেখাটি মরহুম হাবীবুল্লাহ স্যার ও মরহুম আব্দুস সাত্তার স্যার (মাধ্যমিক) এর লেখা থেকে সংগ্রহ, মরহুম আব্দুস ছত্তার স্যার (প্রাইমারী) এর কাছ থেকে ছাত্রজীবনে শোনা, জনাব শাহ আলম বাহাদুর স্যার, জনাব গাজী আব্দুর রহিম স্যার, জনাব মোঃ হেমায়েত উদ্দিন স্যার, জনাব মোঃ সালেকুর রহমান স্যার, প্রয়াত স্বপন কুমার দত্ত স্যার ও বীর মুক্তিযোদ্ধা জনাব মোঃ নজরুল ইসলাম সাহেবের কাছ থেকে জানা ও আমার অভিজ্ঞতা থেকে লেখা।

তথ্য সংগ্রহ ও লেখক: 
মোঃ আমিনুল ইসলাম তালুকদার
সিনিয়র শিক্ষক
সরকারি স্বরূপকাঠী পাইলট মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়

Scroll to Top