সরকারি স্বরূপকাঠী পাইলট মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়
নেছারাবাদ (স্বরূপকাঠী), পিরোজপুর।
১৯২৭
১৯২৭ সনের ৪ জানুয়ারি, একটি স্বপ্ন নিয়ে আমাদের বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল স্বরূপকাঠী হাই স্কুল নামে।
১৯৫৯
পুন:প্রতিষ্ঠা: ১৯৫৯ সনে ৪ঠা জানুয়ারি মিলাদের মাধ্যমে বিদ্যালয়ের কার্যক্রম শুরু হয়।
১৯৭২
এর দশক শিক্ষা ও পরিকাঠামোর উন্নয়ন ও নাম করন হয় স্বরূপকাঠী দ্বিমুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে মাধ্যমিক পরীক্ষার কেন্দ্র স্থাপিত হয়।
১৯৭৭
স্বরূপকাঠি দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিবর্তে স্বরূপকাঠি পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়।
১৯৮৩
১৯৮৩–১৯৮৬ সময়কালে “স্বরূপকাঠি পাইলট মাধ্যমিক ও কমিউনিটি বিদ্যালয়” রাখা হয়।
১৯৯৬
কমিউনিটি কারিকুলাম বিলুপ্ত করে বিদ্যালয়ে ভোকেশনাল (কারিগরি) শাখা চালু করা হয়।
২০১০
“স্বরূপকাঠি পাইলট মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়” হিসেবে নতুন পরিচয় লাভ করে।
২০১৮
২০১৮ সালের ১১ অক্টোবর “সরকারি স্বরূপকাঠি পাইলট মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়” সরকারি মর্যাদা লাভ করে।
২০২৭
শ্রেষ্ঠত্বের শতবর্ষ পূর্ণ করে সম্ভাবনাময় এক আলোকিত ভবিষ্যতের পথে অগ্রযাত্রা।
সরকারি স্বরূপকাঠি পাইলট মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়
শতবর্ষ উদযাপন–২০২৭
একটি বিদ্যালয় শুধু একটি ভবন নয়—একটি বিদ্যালয় একটি জনপদের স্বপ্ন, একটি প্রজন্মের বেড়ে ওঠা, অসংখ্য মানুষের ভালোবাসা এবং সময়ের সঙ্গে এগিয়ে চলা এক জীবন্ত ইতিহাস।
সেই ইতিহাসের গৌরবময় একশ বছর পূর্ণ করতে যাচ্ছে সরকারি স্বরূপকাঠি পাইলট মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়। ১৯২৭ সালের ৪ জানুয়ারি ‘স্বরূপকাঠি হাই স্কুল’ নামে যে শিক্ষালয়ের যাত্রা শুরু হয়েছিল, শত প্রতিকূলতা, পরিবর্তন ও সময়ের স্রোত পেরিয়ে আজ তা শতবর্ষের দ্বারপ্রান্তে।
এক দীর্ঘ পথচলার গল্প
এই দীর্ঘ পথচলা কখনোই মসৃণ ছিল না। প্রতিষ্ঠার পর বিদ্যালয়টি বিভিন্ন সামাজিক ও ঐতিহাসিক সংকটের মুখোমুখি হয়েছে। এক পর্যায়ে বিদ্যালয়ের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেলেও স্বরূপকাঠির মানুষের ভালোবাসা ও শিক্ষার প্রতি অঙ্গীকার তাকে আবারও ফিরিয়ে এনেছে। ১৯৫৯ সালের ৪ জানুয়ারি স্থানীয় শিক্ষানুরাগী, শিক্ষক, সরকারি কর্মকর্তা ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগে বিদ্যালয়টি নতুন করে যাত্রা শুরু করে।
এই পুনর্জাগরণের পেছনে ছিলেন বহু নিবেদিতপ্রাণ মানুষ। আব্দুল ওয়াহাব, আব্দুর রউফ, ডা. আব্দুল লতিফ, ধীরেন্দ্রনাথ সমদ্দারসহ স্থানীয় অনেক ব্যক্তি ও শিক্ষানুরাগী মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বিদ্যালয়টি নতুন জীবন লাভ করে। শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর স্বেচ্ছাশ্রম ও আত্মত্যাগে গড়ে উঠেছিল বিদ্যালয়ের পথচলা।
শুধু শ্রেণিকক্ষের শিক্ষায় নয়—শিক্ষা, সংস্কৃতি, বিতর্ক, খেলাধুলা, কৃষি ও সামাজিক কর্মকাণ্ডেও বিদ্যালয়টি তার স্বাতন্ত্র্যের পরিচয় দিয়েছে। শিক্ষার্থীদের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, বিতর্কসভা, দেয়াল পত্রিকা, নাটক ও খেলাধুলার ঐতিহ্য বিদ্যালয়ের ইতিহাসকে করেছে আরও সমৃদ্ধ।
মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধেও এই বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের স্মৃতি রয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের সময় বিদ্যালয়ের মাঠে শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার কথাও বিদ্যালয়ের ইতিহাসে সংরক্ষিত রয়েছে।
ফলে এই প্রতিষ্ঠান কেবল শিক্ষা বিস্তারের কেন্দ্র নয়; এটি এই জনপদের সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক যাত্রারও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
নাম বদলেছে, এগিয়ে গেছে প্রতিষ্ঠান
সময় বদলেছে, বিদ্যালয়ের নামও বদলেছে। ‘স্বরূপকাঠি হাই স্কুল’ থেকে ‘স্বরূপকাঠি দ্বিমুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয়’, এরপর ‘স্বরূপকাঠি পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়’, ‘স্বরূপকাঠি পাইলট মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়’— আর ২০১৮ সালের ১১ অক্টোবর প্রতিষ্ঠানটি ‘সরকারি স্বরূপকাঠি পাইলট মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়’ হিসেবে সরকারি মর্যাদা লাভ করে।
স্মৃতির পাতায় ফিরে আসা
শতবর্ষ তাই কেবল একটি উৎসবের নাম নয়।
যাঁরা এই বিদ্যালয়ের জন্য জীবন দিয়েছেন, যাঁরা শিক্ষকতা করেছেন, যাঁরা শিক্ষার্থীদের মানুষ হিসেবে গড়ে তুলেছেন, যাঁরা বিদ্যালয়ের অবকাঠামো নির্মাণে শ্রম দিয়েছেন, যাঁরা অর্থ, সময় ও মেধা দিয়ে পাশে থেকেছেন এবং যাঁরা আজ আমাদের মাঝে নেই— শতবর্ষের এই আয়োজন তাঁদের সকলের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতার নিবেদন।
পাইলটিয়ানদের মহামিলন
শতবর্ষের এই মাহেন্দ্রক্ষণে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে থাকা বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী, বর্তমান শিক্ষার্থী, সাবেক ও বর্তমান শিক্ষক, অভিভাবক এবং শুভানুধ্যায়ীরা একত্রিত হবেন একটি বৃহৎ মিলনমেলায়।
শতবর্ষের আয়োজনে স্মৃতিচারণ, প্রাক্তন শিক্ষক ও কৃতী শিক্ষার্থীদের সম্মাননা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, স্মরণিকা প্রকাশ, ঐতিহাসিক স্মৃতি সংরক্ষণ এবং প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের মিলনমেলার মধ্য দিয়ে উদযাপিত হবে এই ঐতিহাসিক দিন।
নতুন অধ্যায়ের সূচনা
একশ বছর পূর্ণ হওয়া মানে একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি নয়; বরং নতুন অধ্যায়ের সূচনা।
১৯২৭ সালে যে স্বপ্নের বীজ বপন করা হয়েছিল, তা আজ শতবর্ষের মহীরুহ। সেই বৃক্ষের ছায়ায় বেড়ে উঠেছে অসংখ্য প্রজন্ম। আগামী দিনে এই প্রতিষ্ঠান আরও জ্ঞাননির্ভর, মানবিক, আধুনিক ও আলোকিত প্রজন্ম গড়ে তুলবে—এটাই শতবর্ষের প্রত্যাশা।
এবং আগামী প্রজন্মের জন্য রেখে যাব একটি আলোকিত ভবিষ্যৎ।
আপনিও হোন ইতিহাসের অংশ
দেশে কিংবা বিদেশে—যেখানেই থাকুন, আপনার শৈশব-কৈশোরের সেই প্রিয় বিদ্যালয় আপনাকে ডাকছে।
যে বিদ্যালয় আপনাকে স্বপ্ন দেখতে শিখিয়েছে,
যে বিদ্যালয়ের মাঠে আপনার শৈশব কেটেছে,
যে শিক্ষকের একটি কথা আপনার জীবন বদলে দিয়েছে,
যে বন্ধুত্ব আজও স্মৃতির পাতায় অমলিন—
সেই বিদ্যালয়ের শতবর্ষের উৎসবে আপনিও হোন ইতিহাসের অংশ।